মাগুরায় আট বছরের শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ধর্ষকদের সামাজিক বয়কটের আহ্বান জানিয়েছেন জামাতের আমির শফিকুর রহমান। রোববার (৯ মার্চ) সকাল ৯টা ৫৭ মিনিটে ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, “ধর্ষকদের ঘৃণা করুন ও সামাজিকভাবে বয়কট করুন।”
তিনি আরও বলেন, “মাগুরার সেই শিশুর ধর্ষক ও সহযোগীদের অপরাধ এক ও অভিন্ন। এদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। ইমাম, খতিব, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব ও সচেতন নাগরিকদের ধর্ষকদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।”
অপরাধীদের কঠোর শাস্তির নিশ্চয়তার বিষয়ে সোচ্চার রয়েছে প্রশাসনও। রোববার সকালে ধর্ষণের শিকার শিশুটিকে দেখতে ঢাকা সেনানিবাসের সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ)-এ যান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোঃ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.)। তিনি জানান, মাগুরা সদর থানায় চার আসামির বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং পুলিশ ইতোমধ্যে এজাহারভুক্ত চারজনকেই গ্রেপ্তার করেছে।
উপদেষ্টা বলেন, “দোষীরা যেন কোনোভাবেই ছাড় না পায়, তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দ্রুত তদন্ত শেষে আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে, শনিবার বিকেল ৫টার দিকে শিশুটিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে সিএমএইচ-এ স্থানান্তর করা হয়। ঢাকা মেডিকেলের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান জানান, “শিশুটি প্রথম থেকেই ক্রিটিক্যাল অবস্থায় ছিল। অতিরিক্ত ভিড় ও আতঙ্কের পরিবেশের কারণে চিকিৎসায় ব্যাঘাত ঘটছিল, তাই সিএমএইচ-এ স্থানান্তর করা হয়েছে।”
এই মর্মান্তিক ঘটনায় পুরো দেশ জুড়ে ন্যায়বিচারের দাবি উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতারা ধর্ষকদের কঠোর শাস্তি এবং নারী ও শিশুদের সুরক্ষায় আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন।